মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা

মুক্তিযুদ্ধে মাদারীপুর

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনীতির অন্যতম ক্ষেত্র ছিল মাদারীপুর মহকুমা। শেখ মুজিবুর রহমান মাদারীপুর ইসলামিয়া স্কুলের ছাত্র ছিলেন। তার পিতা শেখ লুৎফর রহমান মাদারীপুরে চাকরি করেন। শিশুকাল থেকে মাদারীপুরের সাথে বঙ্গবন্ধুর নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে মাদারীপুরের জনগণ বঙ্গবন্ধুর আহবানে সর্বাগ্রে এগিয়ে আসেন। এমএনএ ও এমপি এ গণ ছিলেন বঙ্গবন্ধুর একনিষ্ঠ সহকর্মী। এডভোকেট আমজাদ হোসেন এমএনএ, ডাঃ এম এ কাসেম এমএনএ, এডভোকেট আদেল উদ্দিন হাওলাদার, এডভোকেট আবিদুর রেজা চৌধুরী, আসমত আলী খান এমপিএ, ফণীভূষণ মজুমদার এমপিএ ,গৌরচন্দ্র বালা, আবদুর রাজ্জাক এমপিএ, ইলিয়াস আহমদ চৌধুরী এমপিএ, এডভোকেট মতিয়ুর রহমান এমপিএ ১৯৭০ সালে জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন। তারা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। অবশ্য কয়েকজন ভারতে যেতে পারেননি। দেশের ভিতরে থেকে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে কাজ করেছেন। ১৯৭১ সালের ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ছিল মূল চালিকাশক্তি। ছাত্র নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন শাজাহান খান আহবায়ক ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ, হাবিবুর রহমান আজাদ, সিরাজুল হক বাচ্চু ভূঁইয়া, জিল্লুর রহমান, হারুন অর রশিদ নীরু, হাবিবুল হক খোকন, বদিউজ্জামান (শহীদ), হারুন মোল্লা, মফিজুর রহমান, আনিসুর রহমান প্রমুখ।

১৯৭১ সালের ১ মার্চ পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান সংসদ অধিবেশন স্থগিত করার প্রতিবাদে সম্ভবত মাদারীপরে সংগ্রাম পরিষদ প্রথম পতাকা পুড়িয়ে পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে। নাজিমউদ্দিন কলেজ মাঠে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে পতাকা পুড়িয়ে ফেলে। পতাকা পুড়িয়ে ফেলার নেতৃত্বে ছিলেন শাজাহান খান, বদিউজ্জামান (শহীদ), খলিলুর রহমান খান, তাহেরুল ইসলাম প্রমুখ।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন। ৭ মার্চের ভাষনের আলোকে কর্মসূচী গ্রহণের জন্য ৮ মার্চ এডভোকেট আমজাদ হোসেন এমএনএ’র বাসায় সর্বদলীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় এডভোকেট আসমত আলী খানকে আহবায়ক করে সর্বদলীয় গ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। এ পরিষদে ছিলেন ফণী ভূষণ মজুমদার, ডাঃ এম এ কাসেম, আবদুল মান্নান চুনু, এডভোকেট আমজাদ হোসেন, এডভোকেট মতিউর রহমান, এডভোকেট নুরুল হক, ইলিয়াস আহমত চৌধুরী, আমিনুল ইসলাম দানেশ, ডাঃ রকিবউদ্দিন আহমদ, আবিদুর রেজা চৌধুরী এমএনএ, এবিএম নুরুল হক, এডভোকেট আবদুল মান্নান সিকদার, এডভোকেট আবদুল খালেক, মতিউর রহমান ভূঁইয়া প্রমুখ।

মাদারীপুর ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ১০ মার্চ জয় বাংলা বাহিনী গঠন করে। জয় বাংলা বাহিনীর ট্রেনিং দেয়ার জন্য সাবেক ছাত্রনেতা সরওয়ার হোসেন মোল্লাকে আহবায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যদের মধ্যে ছিলেন- শাজাহান খান, জলিল বেপারী, হাবিবুল হক খোকন, মাহবুব সাঈদ, সানু, নকিব প্রমুখ। এ সময় মাদারীপুরে সর্বত্র হরতাল ও অসহযোগ আন্দোলন চলে। বঙ্গবন্ধুর আহবানে অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। ২৫ মার্চ ঢাকায় পাকবাহিনীর হত্যার খবর রাতেই পুলিশ ওয়ারলেসে মাদারীপুর পৌঁছে। বরিশালের এমএনএ নুরুল ইসলাম মঞ্জু ২৫ মার্চ রাতেই মাদারীপুর মিলন সিনেমা হলে ঢাকায় পাক বাহিনীর আক্রমনের খবর দেয়- টেলিফোন ধরে ছিলেন এডভোকেট আবদুল মান্নান সিকদার। এ সংবাদ মাইকযোগে শহরে প্রচার করা হয়। ঢাকায় পাকবাহিনীর আক্রমণের প্রতিবাদে মাদারীপুর নাজিমউদ্দিন কলেজ মাঠে অস্ত্র প্রশিক্ষণ শুরু হয়। এর দায়িত্বে ছিলেন কলেজের  অফিস সহকারী খলিলুর রহমান। ইতোমধ্যে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামী ক্যাপ্টেন শওকত আলী ও স্টুয়ার্ট মুজিব ও বিমান বাহিনীর আলমগীর হোসাইন প্রশিক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। একই সাথে ১০ টি থানা সদরে সংসদ সদস্যদের নেতৃত্বে মুক্তি বাহিনী গঠন করা হয় এবং প্রশিক্ষণ চলতে থাকে। মাদারীপুরের এসডিও রেজাউল হায়াত, ম্যাজিষ্ট্রেটগণ, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিগণ সংগ্রাম কমিটির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেন। মাদারীপুরের বিভিন্ন জায়গায় পাকবাহিনী প্রতিরোধ করা জন্য ঘাঁটি স্থাপন করা হয়। ঢাকা-বরিশাল সড়কপথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। পাকবাহিনীর সাথে সম্মুখযুদ্ধ করার জন্য উচ্চতর প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। তাই মাদারীপুর সংগ্রাম কমিটি ১৫০ জন যুবককে স্টুয়ার্ট মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৭ এপ্রিল আগরতলায় প্রেরণ করা হয়। ভারতে যারা মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে যায় তাদের মধ্যে মাদারীপুরের যুবকরা সর্বাগ্রে গমন করেন।

পাকবাহিনী ফরিদপুর দখল করার পর ২৪ এপ্রিল মাদারীপুর আক্রমণ করে।পাকবাহিনী মাদারীপুরের এসডিও (Sub-Divisional Officer) রেজাউল হায়াত, সেকেন্ড অফিসার আবদুল হাই, কালকিনী থানার সিও ডেভ (Circle Officer-Development) এন এম মাহবুবকে গ্রেফতার করে তাদের ওপর অবর্ণনীয় অত্যাচার চালায়। সামরিক বিচারে রেজাউল হায়াতের ১৪ বছর জেল হয়।

মাদারীপুরের এমএনএ, এমপিএদের মধ্যে অনেকে মুজিবনগর চলে যান। তারা স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার গঠন ও মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের মধ্যে শীর্ষ নেতৃত্বে ছিলেন-ফণী ভূষণ মজুমদার এমপিএ এবং আবদুর রাজ্জাক এমপিএ। ফণী ভূষণ মজুমদার দক্ষিণ-পশ্চিম জোনাল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ছিলেন। ফরিদপুর-যশোর দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের অন্তর্গত ছিল। আবদুর রাজ্জাক ছিলেন মুজিব বাহিনীর অন্যতম প্রধান। সিরাজুল আলম খান, শেখ ফজলুল হক মণি, তোফায়েল আহমদ ও আবদুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে মুজিব বাহিনী গঠিত হয়েছিল। ডাঃ আবুল কাশেম এমএনএ, ইলিয়াস আহমদ চৌধুরী এমপিএ, মতিউর রহমান এমপিএ ভারতে যুব শিবির ও শরনার্থী ক্যাম্পের দায়িত্বে ছিলেন। তারা মুক্তিযুদ্ধে সংগঠক হিসেবে মুজিবনগর সরকারকে শক্তিশালী করেন। তারা মাদারীপুর অঞ্চলের লক্ষাধিক শরণার্থীদের ভারতে আশ্রয়ের ব্যবস্থা ও যুবকদের সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। ক্যাপ্টেন শওকত আলী ২ নম্বর সেক্টরের অধীনে সাব-সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। তিনি ফরিদপুরে প্রেরণের ব্যবস্থা করেন। মাদারীপুর শহরের চৌধুরী নুরুল আলম বাবু চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধের মুখপত্র বাংলার বাণী পত্রিকার ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত ছিলেন। তিনি ১৯৭১ সালে কলকাতার ভবানীপুরের ২১ রাজেন্দ্র স্ট্রীটের মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্পের দায়িত্ব পালন করেন। বাংলার বাণী পত্রিকার সম্পাদনায় ছিলেন ছাত্রনেতা আমীর হোসেন। বরিশালের স্বরূপকাঠী নিবাসী আওয়ামী লীগ নেতা চিত্তরঞ্জন সুতারের বাড়িতে উক্ত ক্যাম্প প্রতিষ্ঠিত হয়। মাদারীপুরে খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে খলিল বাহিনী ও গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় হেমায়েত উদ্দিনের নেতৃত্বে হেমায়েত বাহিনী গড়ে ওঠে। মাদারীপুরের ছাত্র-যুবক উভয় বাহিনীতে যোগ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছে।

ভারত থেকে ট্রেনিং গ্রহণ করে মুক্তিযোদ্ধারা জুন-জুলাই মাসে মাদারীপুর মহকুমার বিভিন্ন গ্রামে অস্থায়ী ক্যাম্প প্রতিষ্ঠা করে। মাদারীপুর থানার কমলাপুর, কলাগাছিয়া, শিড়খাড়া, খোয়াজপুর, দুধখালি, কালকিনী থানার সাহেবরামপুর, মিয়ারহাট, শশীকর, খাসেরহাট, শিবচর থানার দত্তপাড়া, মাতবরের চর, রাজৈর থানার মহিষমারী, কবিরাজপুর, পাথুল্যা, কদমবাড়ি প্রভৃতি স্থানে মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্প ছিল। নড়িয়া, জাজিরা, পালং, গোসাইরহাট, ভেদরগঞ্জ থানার চর অঞ্চলে অনেক ক্যাম্প প্রতিষ্ঠিত হয়। এ অঞ্চলের দায়িত্বে ছিলেন ক্যাপ্টেন শওকত আলী ও স্টুয়ার্ট মুজিব। সর্বহারা নেতা সিরাজ সিকদারের নেতৃত্বে একটি দল পৃথকভাবে মুক্তিযুদ্ধ করে। সিরাজ সিকদার প্রথমে বরিশালেল আটঘর কুড়িয়ানায় পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে সফলতা অর্জন করেন। ২ নম্বর সেক্টরের অধীনে আলমগীর হোসাইন ও মোসলেম উদ্দিন খান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদেন। থানা কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন খলিলুর রহমান খান, আবদুর রহমান, শাহজাহান মোল্লা ও আবদুল কাদের মোল্লা।

১৯৭১ সালের জুলাই মাসে মুক্তিযোদ্ধারা সংগঠিত হতে থাকে। মাদারীপুর ও রাজৈর থানার বিল এলাকা নিয়ে এরিয়া কমান্ডার আলমগীর হোসাইনের নেতৃত্বে মাদারীপুর মহকুমা হেডকোয়ার্টার গড়ে ওঠে। তার অধীনে ৩শ’ মুক্তিযোদ্ধা ছিল। তারা শিবচরেও ক্যাম্প প্রতিষ্ঠা করে। পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ করে এ মহকুমার মুক্তিযোদ্ধারা বিজয় লাভ করেন। তারা রাজাকার, শান্তি কমিটিকে পর্যুদস্ত করে। এমনকি এক পর্যায়ে মাদারীপুর এ.আর. জুট মিলে অবস্থিত পাকবাহিনীর ক্যান্টনমেন্টে মর্টার আক্রমণ চালায়।

মুজিব বাহিনীর প্রধান  সারোয়ার মোল্লা, সহ-অধিনায়ক শাজাহান খান তাদের বাহিনী নিয়ে মাদারীপুরে প্রবেশ করে। ছাত্রনেতা শেখ শহীদুল ইসলামের দলে মাদারীপুরের নিরু, বাবু, মানিক, কাঞ্চনসহ অনেকেই ছিলেন। তারা সিরাজুল ইসলাম বাচ্চু ভুঁইয়ার ক্যাম্পে যোগ দেন।

সম্মুখযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীঃ

টেকেরহাট প্রতিরোধঃ ২৪ এপ্রিল পাকবাহিনী মাদারীপুর প্রবেশ করে। মুক্তিফৌজ টেকেরহাটে তাদের প্রতিরোধ করার চেষ্ট করে। কিন্তু ৩০৩ রাইফেল দিয়ে বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি। পাকহানাদার বাহিনী টেকেরহাটে লুট করে।

পাথূল্যা মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে পাকবাহিনীর আক্রমণঃ মুক্তিযোদ্ধারা প্রতিরোধ করে এবং এ যুদ্ধে আলাউদ্দিন শহীদ হন। নিহত হয় ৩   জন পাকসেনা।

কালকিনিতে মুক্তিযোদ্ধারা চালের কার্গো দখল করে।

কলাবাড়িরর যুদ্ধঃ ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের শেষে এরিয়া কমান্ডার আলমগীর হোসাইন মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে শিবচর যাওয়ার পথে বরিশাল-ঢাকা সড়কের কলাবাড়ি ব্রিজের কাছে পৌঁছলে পাকবাহিনী তাদের ওপর আক্রমণ চালায়। মুক্তিযোদ্ধারা আক্রমণ করে পাকবাহিনীর কয়েকজনকে হত্যা করে।

কমলাপুর ও কলাগাছিয়া ক্যাম্প আক্রমণ ও গণহত্যাঃ ঘটকচর হাইস্কুলে রাজাকারদের ক্যাম্প ছিল। মুক্তিযোদ্ধারা তাদের ক্যাম্প আক্রমণ করে অস্ত্রসহ রাজাকারদের ধরে নিয়ে যায়। এ সংবাদ শুনে পাকবাহিনী কমলাপুর ও কলাগাছিয়া ক্যাম্প আক্রমণ করে। মুক্তিযোদ্ধারা কয়েক ঘন্টা যুদ্ধ করে পিছু হটে যায়। পাকবাহিনীর কয়েকজন নিহত হয়। পরে পাকসেনা কমলাপুর ও কলাগাছিয়া এলাকায় দু’শ লোক হত্যা করে।

টুঙ্গীপাড়া নিবাসী বঙ্গবন্ধুর ভায়রা-পুত্র ছাত্রনেতা শেখ শহীদুল ইসলামকে ফরিদপুর জেলা মুজিব বাহিনীর জেলা কমান্ডার নিয়োগ করা হয়। তার নেতৃত্বে মুজিব বাহিনী মাদারীপুর মহকুমায় পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে বীরত্বের পরিচয় দেয়।

অক্টোবর মাসে  সারোয়ার মোল্লা, শাজাহান খান, হারুন অর রশীদের নেতৃত্বে মহিষাবাড়ি, কদমবাড়ি, বেলিগ্রাম, শিবমারা ও খোয়াজপুরে ক্যাম্প প্রতিষ্ঠা করে। মুজিব বাহিনীর আগমনে এসব যুদ্ধের গতি তীব্র হতে থাকে।

নভেম্বর মাসে মুক্তিযোদ্ধাদের দখল চলে আসে। মাঝে মাঝে পাকসেনারা গ্রামে যেয়ে গণহত্যা চালাত। তৎকালীন মাদারীপুর জেলার ৯ টি থানায় তারা ব্যাপক গণহত্যা, লুট ও নারী ধর্ষণ করে। মাদারীপুর উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ক্যাপ্টেন শওকত আলী ও স্টুয়ার্ড মুজিবের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা হামলা চালায়।

দিগনগর ফেরিঘাটের যুদ্ধঃ মাদারীপুর সীমান্তে মুকসুদপুর থানার মাদারীপুর-ফরিদপুর সড়কের দিগনগর ফেরিঘাটে ১৯৭১ সালে ৯ ডিসেম্বর হতে ১১ ডিম্বের পর্যন্ত পাকবাহিনীর সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়। ঢাকা যাওয়ার পথে দিগনগর ফেরিঘাটে পাকসেনাদের ঘাঁটি ছিল। ৯ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা দিগনগর ফেরিঘাট আক্রমণ করে। ৩ দিন যুদ্ধ চলে। যুদ্ধে ১২ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। শতাধিক পাকসেনা নিহত ও আহত হয়।

সংযুক্তি

Muktizuddho_O_Muktizoddha_0.pdf Muktizuddho_O_Muktizoddha_0.pdf